ছবিঃ সংগৃহীত
অভিনেতা শ্যামল মাওলার ব্যস্ততা এখন সিনেমা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাজ নিয়ে। গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘চিরকুট’। নব্বইয়ের দশকের ক্যাম্পাসজীবন, বন্ধুত্ব ও স্মৃতিময় সময়ের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের আগ্রহ দেখছেন এই অভিনেতা। অন্যদিকে, হাতে রয়েছে ওটিটির একাধিক কাজ। অভিনয়, নতুন সিনেমা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন।
দর্শক এখন যে ধরনের সিনেমা দেখতে চান, ‘চিরকুট’ তেমনই একটি কাজ। এ কারণে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের মধ্যে ভালো আগ্রহ দেখছি। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের ক্যাম্পাসজীবন, বন্ধুত্ব ও নস্টালজিয়ার বিষয়গুলো দর্শক উপভোগ করছেন। এটি উৎসবকেন্দ্রিক সিনেমা হওয়ায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ হয়েছে। নির্মাতা মুনতাসির আকিব যেভাবে সত্য ঘটনাটি পর্দায় তুলে ধরেছেন, তা দর্শক ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন। সিনেমাটি শুধু বিনোদন দেবে না, একটি বিশেষ সময়ের আবেগও জাগিয়ে তুলবে। তবে সবে মুক্তি পেয়েছে, তাই দর্শকের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া বুঝতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
এটি নির্মাতা ও আমাদের সবার জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সময়ের পার্থক্য, পোশাক, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং সে সময়ের জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গ গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তুলে ধরা সহজ ছিল না। তবে এই চ্যালেঞ্জই কাজের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছিল। নব্বইয়ের দশক আমার জীবনের সেরা সময়। সে সময়ের আবহ নিয়ে কাজ করতে পেরে বেশ উপভোগ করেছি।
রবিউল আলম রবি ভাইয়ের পরিচালনায় ‘সুরাইয়া’ একটি চমৎকার কাজ। শিবব্রত বর্মনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় শহুরে জীবনের রুক্ষ বাস্তবতা ও মানবিক গল্পের দারুণ মিশ্রণ রয়েছে। সিনেমাটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছে। সিয়াটলের তাসভীর চলচ্চিত্র উৎসব ও বুসান ফিল্ম বাজারে এটি প্রশংসিত হয়েছে। নাজিফা তুষির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো ছিল।
আমি ওটিটিকে বেশ সম্ভাবনাময় মনে করি। এই মাধ্যমের বিস্তারের ফলে কাজের ধরন ও পরিসর বদলে গেছে। আগে টেলিভিশনে দীর্ঘ সময় কাজ করেছি। তবে ওটিটি ও ভিন্নধর্মী সিনেমা নিজেদের নতুনভাবে মেলে ধরার যে সুযোগ দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। খ্যাতির পেছনে না ছুটে প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার মধ্যেই অভিনয়ের আসল আনন্দ খুঁজে পাই। কাজকে ভালোবেসে সততার সঙ্গে করে যাওয়ার মাধ্যমে এই সময়টাকে উপভোগ করছি।
বর্তমান সময়ের দর্শকদের রুচির পরিবর্তনও ইতিবাচক। তাঁরা এখন অনেক বেশি সচেতন। গল্প, অভিনয় ও নির্মাণশৈলী—সবকিছু বিচার করেই একটি কাজ গ্রহণ করেন। দর্শকের এই প্রত্যাশা আমাদের আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহ দেয়।
আমার কাছে মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্মের চেয়ে অভিনয়টাই বড়। ওয়েব, টেলিভিশন, থিয়েটার কিংবা রেডিও—যেকোনো মাধ্যমে মনের মতো চরিত্র পেলে কাজ করতে প্রস্তুত। ওটিটির কাজের পাশাপাশি সময় পেলে নাটকেও অভিনয় করি। সম্প্রতি কয়েকটি একক ও ধারাবাহিক নাটকের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছি।